
করোনার প্রকোপে দু’বছরের অধিক সময়ে আমরা প্রায় সকলেই গৃহবন্দী বা বলা ভালো ঘর আর কাজের জায়গার বাইরে বেড়ানো প্রায় বন্ধ আমাদের। সর্বশেষ 2019 সালের সিকিম ভ্রমণ। তারপর এই একঘেয়ে জীবনে একটু অক্সিজেনের তাগিদেই 30 শে জানুয়ারি (2022) এ বেরিয়ে পড়লাম স্বামীনারায়ণ মন্দির দর্শনে।
বেহালা ঠাকুরপুকুরে বাড়ি হওয়ার সুবাদে জোকার স্বামীনারায়ণ মন্দির যেতে মাত্র 15 মিনিট সময় লাগে। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ নিজস্ব গাড়ি নিয়ে আমরা তিনজন মন্দিরের পথে রওনা হলাম। করোনাকালে সাথে স্যানিটাইজার, অতিরিক্ত মাস্ক আর ওয়াইপস (wipes) সবসময়ে থাকে ।



সাধারণতঃ প্রতি মঙ্গল ও শনিবার সন্ধ্যেতে পৈলানে হাট বসার জন্য খুব ভীড় হয় রাস্তায়। তাই ওই দুটো দিন সময়ে হাতে নিয়ে যাওয়া-আসা করাটাই শ্রেয়। যাইহোক চারটে পঁয়তাল্লিশে আমরা পৌঁছে যাই মন্দিরে। প্রবেশমূল্য নেই। কিন্তু গেটে স্যানিটাইজিংয়ের কোন বন্দোবস্তই নেই। পার্কিংয়ের সুবিশাল জায়গায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে দেখি পাশে মন্দির প্রাঙ্গনের খালি জমিতে ফুলকপি, বেগুন, পালং শাক ইত্যাদি চাষ হচ্ছে। কিছু কিছু সবজি ক্যান্টিনের পাশে রাখা একটি টেবিলে 2, 3 জন ভদ্রলোক বিক্রি করছেন। ভালো করে গুণমান বিচার করে দেবদর্শনের আগে সব্জি কেনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের কাছে। অগত্যা ফুলকপি, বাঁধাকপি আর পালং শাক নিয়ে গাড়িতে রেখে এসে প্রধান মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলাম।
বেশ কিছু জায়গায় প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। সম্ভবত ভিড় এড়াতে এই বন্দোবস্ত। প্রাঙ্গণের মাঝে সিঁড়ি উঠে গেছে মূল মন্দিরে। ওপরে উঠে গিয়ে মন্দিরের ছবি তোলা নিষেধ। প্রাঙ্গণে বসার সুবিধা না থাকলেও মন্দিরের কাছে যথেষ্ট বসার বন্দোবস্ত আছে। সিঁড়ির ধাপ খুবই ছোট হওয়ার দৌলতে বয়স্ক সদস্য বা ছোট বাচ্চা থাকলেও কোন অসুবিধা হবার কথা নয়। ওখানে রাধাকৃষ্ণের মূর্তি রয়েছে আর উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দুটো মন্দির রয়েছে। সেখানে রাম, সীতা, বীর হনুমানের মূর্তি রয়েছে। আরতী ও ভোগ নিবেদন মন্দিরের নাটমন্দির লাগোয়া এলসিডি টিভি থেকে সরাসরি প্রদর্শিত হচ্ছে। ভোগ নিবেদনের পর মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা ফেরার পথ ধরি। তখন প্রায় রাত ৭:৪৫|



এখানের স্থাপত্যের মাধ্যমে রাধা-কৃষ্ণ, রাম – সীতা প্রভৃতি দেবতার জীবনযাত্রার বর্ণনা প্রকাশ পেয়েছে।খুব সুন্দর এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী রইলাম আমরা।
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রবেশ বিনামূল্য
- প্রাঙ্গনের ভিতর সম্পূর্ণ নিরামিষ ক্যান্টিন আছে
- একটা বই ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীর দোকান রয়েছে
- প্রাঙ্গনে জুতা খুলে রাখার ব্যবস্থা আছে তা সম্পূর্ণ বিনামূল্য় ও নিরাপদ
- মূল মন্দিরে ছবি তোলা নিষেধ ও অনুমতিসাপেক্ষ
- মন্দিরের বাইরেও বেশ কিছু খাবারের অস্থায়ী দোকান (food stall) আছে
- মন্দির প্রাঙ্গনে ধুম্রপান নিষিদ্ধ
- কোনোরূপ পোষ্যের প্রবেশাধিকার নেই, তবে নিতান্ত প্রয়োজনে হেল্প ডেস্কের সহায়তা নিতে পারেন |
- মন্দির প্রাঙ্গন খোলার সময়:
- সকাল ৭:৩০ থেকে দুপুর ১২:০০ (7:30 A.M. to 12:00 P.M.)
- বিকেল ৩:৩০ থেকে রাত ৮:০০ (3:30 P.M. to 8:00 P.M.)
- আরতির সময়:
- সানগার – সকাল ৭:৩০ (Shangar : 7:30 A.M.)
- রাজভোগ – বেলা ১১:১৫ (Rajbhog : 11:15 A.M.)
- সন্ধ্যা – সন্ধ্যা ৬:৩০ (Sandhya : 6:30 P.M.)
- শয়ন – রাত ৮:০০ (Shayan : 8:00P.M.)
- সাপ্তাহিক সমাবেশ(Weekly assemblies)
- বালক/বালিকা সভা (গুজরাতি)
- বালক/বালিকা সভা (বাংলা )
- কিশোর/কিশোরী সভা (গুজরাতি)
- কিশোর/কিশোরী সভা (বাংলা)
- সত্সঙ্গ সভা (গুজরাতি)
- সত্সঙ্গ সভা (বাংলা)
পোশাকের বিধিনিষেধ (dress code): নারী-পুরুষ নির্বিশেষে গা -হাত ঢাকা ও হাঁটুর নীচ অবধি পোশাক বাধ্যতামূলক|
ঠিকানা (Address):
বাপস স্বামীনারায়ণ মন্দির, ভাসা, ১৪ নং ডায়মন্ড হারবার রোড, জেলা: দক্ষিণ ২৪ পরগণা, কোলকাতা: ৭৪৩৫০৩, ভারত
BAPS Swaminarayan Mandir, Bhasa, 14No., Diamond Harbour Road, Dist: South 24 Parganas, Kolkata-743503, India
- পথনির্দেশ (Route):
- ইন্টার সিটি বাস (বাবুঘাট)
- প্রাইভেট বাস নং : SD -16
- Uber/Ola Cab
- Private Car Rental Service
- পার্কিং চার্জেস (30/01/2022):
- বাইক : Rs. 20/-
- চার চাকা (four wheeler car) : Rs. 40/-
- মিনি বাস : Rs. 100
- বড় বাস : Rs. 200/-
আপনারাও আপনাদের অভিজ্ঞতা অবশ্যই শেয়ার করুন আমাদের সাথে…..
( উপরোক্ত বিবরণ টি লেখিকার সম্পূর্ণ নিজস্ব ভ্রমণ অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে। তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট এর তালিকা: https://www.baps.org/Global-Network/India/Kolkata.aspx#,, https://www.baps.org/Global-Network/India/Kolkata/Visitor-Info.aspx )