সিকিম ভ্রমনের অভিজ্ঞতা – ৬ (কালিম্পং – প্রথম পর্ব )

এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা বহন করে আমরা সিকিমের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভ্রমণ সমাপ্ত করে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করলাম। এবার কালিম্পং এর  পথে। বেড়ানো শেষ পর্যায় ।

মংপু যাবার পথনির্দেশ

এখানে একজন গাইডের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল আমাদের ট্রাভেল এজেন্ট, আওয়ার গেস্ট (our guest )। পথেই ওনার সাথে পরিচয় হলো। গাড়িতে উঠেই আগে কালিম্পং এর itinerary বা ভ্রমণ সূচী আমাদের জানিয়ে দিলেন। এরপর আমাদের বিশেষ অনুরোধে আগে মংপুতে (যদিও এটা দার্জিলিং এ )  কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্রাম গৃহ দেখতে নিয়ে গেলেন। পাশেই রয়েছে ২০০১ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী কুইনাইন ফ্যাক্টরি (Government Cinchona Factory)। যেখানে ডিরেক্টর এর আসনে আসীন ছিলেন ড. মনমোহন  সেন ।  ওনার আরেক পরিচয়ে হলো উনি কবিগুরুর ছাত্রী লেখিকা মৈত্রেয়ী দেবীর স্বামী। ড.সেন কর্মসূত্রে ফ্যাক্টরির পাশের বাড়িটি বা বলা ভালো বাংলোটি পেয়েছিলেন। সেখানে বৃদ্ধ রবীন্দ্রনাথ তাঁর ছাত্রীর অনুরোধে কিছু সময়ে কাটাতে যেতেন। বর্তমানে সেই বাড়িটি রবীন্দ্রনাথের বিশ্রামগৃহ বা সংগ্রহশালা হিসেবে সংরক্ষিত।

কিন্তু ওখানে পৌঁছে ভীষণ ভাবে আশাহত হলাম। চারপাশ অপরিষ্কার। কবির আবক্ষ মূর্তিটি ভগ্নপ্রায় ও অসংরক্ষিত (২০১৯ সালের অভিজ্ঞতা অনুসারে)। যদিওবা বা বাড়ির ভেতরটা পরিষ্কার-পরিছন্ন। একজন গাইড ওই জায়গাটা ঘুরিয়ে দেখান পর্যটকদের। বাড়িটির ইতিহাস, কবির লেখা পাণ্ডুলিপি, ব্যবহৃত কালি সবই সুন্দর করে সুরক্ষিত। বেশ ভালো লাগা নিয়েই শুরু হলো কালিম্পং এ যাত্রা।

ওখান থেকে বেরিয়ে মধ্যাহ্নভোজন সেরে আমরা রওনা হলাম মঙ্গপু সিম্বিদিয়াম অর্কিড পার্কের  (Cymbidium Orchid Park) উদ্দেশ্যে। সবুজে ঘেরা   পার্বত্য এই অর্কিড বাগানের মধ্যে রয়েছে হরেকরকম অর্কিড গাছ। বিশাল জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে পার্কটি। আমরা পুজোর সময়ে গেছিলাম বলে অর্কিডের ফুল সেইভাবে দেখতে পাই নি। তবে অতো সুন্দর পরিবেশে সময় যে কিভাবে কেটে যায় বোঝার উপায়েই থাকে না।

Cymbidium Orchid Park

যাইহোক এরপর গন্তব্য হোটেল। আগে থেকেই  ঠিক করা ছিলো ম্যায়ফায়ার  হিমালয়ান স্পা রিসর্ট (Mayfair Himalayan Spa Resort)। পৌঁছে দেখলাম …..

মানে, সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে আরেকটা পোস্ট লেখা হয়ে যাবে আর কি।

এখন তাহলে আসি। পরের পোস্টে থাকবে হোটেল আর কালিম্পং এর বাকি ঘোরা নিয়ে লেখালিখি।

মংপু : দর্শনীয় স্থান

আমার লেখা কেমন লাগছে আপনাদের, অবশ্যই জানান আর আপনাদের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিন কমেন্ট সেকশন এ।

( উপরোক্ত বিবরণ টি লেখিকার সম্পূর্ণ নিজস্ব ভ্রমণ অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে। বিভিন্ন তথ্যের উৎস স্থল হল স্থানীয় বাসিন্দা, গাড়ির ড্রাইভার ও ট্রাভেল এজেন্টের সাথে কথোপকথন। )

(সমস্ত ছবি আমি এবং সুমন তুলেছি। কোনো copied ছবি ব্যবহার করা হয়নি। ছবি স্বত্ত্ব সম্পূর্ণ চিত্রগ্রাহকের।)

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Design a site like this with WordPress.com
Get started