ভুটান পর্ব – ২ ( আমাদের কী কী নথি বা documents লেগেছিল ভুটান যেতে)

(২৪শে মে থেকে ২রা জুন, ২০২৩)

ভুটান পর্ব – ১ (প্রথমবার ভুটান যাবার পরিকল্পনা)

তাহলে খবর তো সব সংগ্রহ করলাম। কিন্তু এখন অনেক কাজ। ভ্রমণ সূচী তৈরি করা (itinerary), জিনিসপত্রের তালিকা তৈরি করা (luggage list), প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র নেওয়া প্রভৃতি।

আপনাদের অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে জিনিসপত্রের তালিকা তৈরির ব্যাপারে। আমরা সাধারণত: যা যা জিনিস নিয়ে যাই, তার একটা তালিকা তৈরী করি। এমনকি কোন্ ব্যাগে কোন্ জিনিস নিয়েছি তাও গোছানোর সাথে সাথে ওই তালিকায় যোগ করতে থাকি। আপনারাও একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। বেড়াতে গিয়ে জিনিস খুঁজে পাওয়ার ঝামেলাটা অন্তত থাকে না।

Paro International Airport
(photo credit : Debomita)

এবার আসি ভ্রমণ সূচী তৈরীর ব্যাপারে।  ভ্রমণ সূচী তৈরি করতে আমাদের ট্রাভেল এজেন্ট (হেভেনলি ভুটান ট্রাভেলস্) আমাদেরকে প্রচুর সাহায্য করেছিলেন। যেহেতু আমরা একটু খেয়ে ঘুমিয়ে ঘুরতে চেয়েছিলাম, তাই মাত্র তিনটি জায়গা আমরা স্থির করি। আমাদের ভ্রমণ সূচী ছিল এই ধরনের ,

  • কোলকাতা থেকে উড়ে পারো বিমানবন্দরে নামবো। ওখান থেকে সোজা থিম্পু।
  • থিম্পু থেকে পুনাখা
  • পুনাখা থেকে ফোবজিখা
  • ফোবজিখা থেকে পারো
  • পারো থেকে কোলকাতা

যেহেতু ভারতীয়রা ভুটানে ভিসা ছাড়াই চলে যেতে পারে তাই পরিচয়পত্র (identity card) হিসাবে ভারতীয় পাসপোর্ট বা ভোটার আইডি কার্ড অবশ্যই দরকার। আরো কিছু documents বা তথ্যের প্রয়োজন হয়। কী কী নথিপত্র বা documents লাগে আর কী কী নিয়ে গেছিলাম, তার একটা তালিকা দিচ্ছি,

1: ই – পারমিট : Entry Permit বা ই-পারমিট ভুটানে প্রবেশের জন্যে আবশ্যিক। S.D.F. (Sustainable Development Fee) দিলে তবেই ই – পারমিট পাওয়া যায়।

2. S.D.F. চার্জ: প্রতি প্রাপ্তবয়স্ক পর্যটকের প্রতি রাত্রে থাকার জন্যে চার্জ হল ১৪০০ টাকা (per Tourist per night stay) এবং পাঁচ থেকে বারো বছরের বাচ্চাদের জন্য এর অর্ধেক আর পাঁচ বছরের নীচের বাচ্চার কোনো চার্জ লাগবে না । অর্থাৎ আপনি যদি ৭ রাত ভুটানে থাকেন, তাহলে আপনাকে ১৪০০ * ৭ = ₹৯৮০০/- দিতে হবে।(২০২৩ সালের মে মাস অনুযায়ী)

3. পরিচয় পত্র: E-permit এ যে পরিচয় পত্রের উল্লেখ আছে, সেটারই আসল কপি (original id card) নিয়ে যাবেন। আমরা পাসপোর্ট নিয়েছিলাম।

4. ট্রাভেল ইন্সুরেন্স (ভ্রমণ সংক্রান্ত বীমা): ট্রাভেল ইন্সুরেন্স অবশ্যই নিতে হবে।

5. থাকার জায়গা: আপনারা নিজেরাই যান বা এজেন্টের মাধ্যমেই যান, থাকার জায়গাটি যেনো ভুটানের ট্যুরিজম ডিপার্টমেন্টের (Department of Bhutan Tourism) স্বীকৃত হয়।

**এইসব বিষয়গুলো নিয়ে আরো বিস্তারিত জানতে নিচের ওয়েবসাইটগুলোতে একবার ঘুরে আসতে পারেন।

http://www.bhutan.travel

https://www.tourism.gov.bt/

https://www.bhutaninsurance.com.bt/index.php?Page_id=112

https://bms.doi.gov.bt

এই সব লিংকগুলো আমি পেয়েছি https://eoi.gov.in/eoisearch/MyPrint.php?0687?000/0003 থেকে।

Phobjikha Valley
(photo credit: Debomita)

6. মুদ্রা /currency : আপনি যখন ভারতের বাইরে ঘুরতে যাচ্ছেন তখন সেই দেশে কোন মুদ্রা বা currency চলে তা জানা খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। এই যেমন ধরুন আপনি ইংল্যান্ড গেলেন অথচ আপনার হাতে ভারতীয় মুদ্রা বা ভারতীয় টাকা। আপনি কি কিছু কিনতে পারবেন? না, পারবেন না।

কিন্তু ভুটানে পারবেন। হ্যাঁ , ঠিকই পড়েছেন। ভারতীয় মুদ্রায় ৫০০  টাকার নোট (denomination) অবধি সব নোটই ওখানে গ্রহণযোগ্য।  যেকোনো অঙ্কের বিল মেটানোর জন্যে ৫০০ টাকার নোট বা তার নিচের অঙ্কের নোট ব্যবহার করতে হবে। ১০০০ টাকা বা ২০০০ ভারতীয় টাকার নোট চলবে না। তাই আমাদের ভুটানিজ নগুলট্রম (Bhutanese Ngultrum) বা ভুটানিজ মুদ্রা নিয়ে যেতে হয়নি (foreign money exchange)।

**exchange rate of 1 bhutanese ngultrum is 1 INR

তাহলে ব্যাগ গোছানো থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নেওয়া সবই হয়ে গেল। এবার যাত্রা শুরু হোক। পরের পর্বে থাকছে কলকাতা থেকে পারো যাবার অভিজ্ঞতার কথা।

আর আপনারা আমার ইউটিউব চ্যানেল দেখছেন তো? লিংক দিয়ে দিলাম সাবস্ক্রাইব করবেন অবশ্যই মনে করে।

ভুটান পর্ব 1

( উপরোক্ত বিবরণ টি লেখিকার সম্পূর্ণ নিজস্ব ভ্রমণ অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে। বিভিন্ন তথ্যের উৎস স্থল হল স্থানীয় বাসিন্দা, গাড়ির ড্রাইভার ও ট্রাভেল এজেন্টের সাথে কথোপকথন। )

( উপরোক্ত বিবরণ টি লেখিকার সম্পূর্ণ নিজস্ব ভ্রমণ অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে। বিভিন্ন তথ্যের উৎস স্থল হল স্থানীয় বাসিন্দা, গাড়ির ড্রাইভার ও ট্রাভেল এজেন্টের সাথে কথোপকথন। )

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Design a site like this with WordPress.com
Get started