ভুটান পর্ব – ১ (প্রথমবার ভুটান যাবার পরিকল্পনা)

(২৪শে মে থেকে ২রা জুন, ২০২৩)

গ্রীষ্মের অগ্নিকুণ্ড থেকে একটু বাঁচবার জন্যেই ভুটান পর্ব। ছেলের স্কুলে গরমের ছুটি ছিলো 19শে মে থেকে। প্রথমে তো পুরী যাবার প্ল্যান করেন আমার কর্ত্তামশাই। কিন্তু স্বেচ্ছায় ওভেনে ঢুকে রোস্ট হতে কে চায় বলুন তো? তাই ভুটানই গন্তব্য।

দাচুলা পাস, ভুটান

খুব কম সময়ের মধ্যেই পুরো ট্যুর প্ল্যান করা হয়। এখানে একটু আমাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা হয়ে যাক। কয়েকটা ক্ষেত্রে একটু বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলাম,

1.একটু relaxed ট্যুর হবে। মানে বছরে প্রায় নয় নয় করেও 3- 4 টে ট্রিপ হয়। আর কলকাতায় আমরা যখন থাকি, তখন ভোর 4 টে থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত হাই- স্পীড রেল গাড়ীর মতো অবস্থা হয়। তাই বছরে অন্তত একটা ট্যুর একটু বিশ্রাম নিয়ে করা যেতেই পারে।

2. যে জায়গায় যাবো, সেখানে যেন ভীড় অপেক্ষাকৃত কম থাকে। তাই তালিকা থেকে স্বাভাবিক ভাবেই দার্জিলিং, সিমলা, কাশ্মীর ইত্যাদি বাদ। আর এত কম সময়ে টিকিট পাওয়াটাও একটা চিন্তার বিষয়ে ছিলো।

ফোবজিখা, ভুটান

শুরু হলো ট্রিপ বা বেড়ানোর প্রস্তুতি।  আর মাত্র 6 দিন। ইন্টারনেট লন্ডভন্ড করে খুঁজে যা পেলাম তার সারমর্ম অনেকটা এরকম:

১) যেহেতু সময় কম, তাই কোলকাতা থেকে ভুটান উড়ে যাওয়াটাই শ্রেয়। ড্রুক এয়ারওয়েজের (Druk airways) সম্পর্কে বেশ কিছু ভালো সমালোচনা চোখে পড়লো।

২) ট্রাভেল এজেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা সেটা ব্যক্তিবিশেষের ওপর নির্ভরশীল। তবে ২-১ দিনের জন্যে হলে ট্রাভেল এজেন্ট ছাড়াও চলে। কিন্তু বেশীদিনের জন্য একজন গাইড থাকা মন্দ নয়।

৩) গাইড বা ট্রাভেল এজেন্টের তালিকা ভুটান গভর্নমেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেই পাওয়া যায়। সেখান থেকে আমরা হেভেনলি ভুটান ট্রাভেলসকে  (Heavenly Bhutan Travels) খুঁজে পাই। বিভিন্ন সাইটে তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর ও কাস্টমার রিভিউ বা অন্যান্য পর্যটকদের মতামত দেখে তারপর ওখানে যোগাযোগ করি।

৪) অন্যতম গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় তাপমাত্রা (local temperature) ও অনুভূত তাপমাত্রা (real feel temperature)।

৫) স্থানীয় প্রধান খাবার ভাত ও কারী। খুব হালকা খাবার। কোথায় কোথায় কোন্ কোন্ খাবার ভালো পাওয়া যায় আর ভারতীয় খাবারের ব্যাপারেও খোঁজ করে গেছিলাম। মাশরুম, ইয়াকের দুধ, ছানা ও বাটার বিখ্যাত।

লাল চালের ভাত, বাটার টি, চিকেন আর মাশরুমের দুটো সব্জি।

৬) ভুটান ভারতীয়দের জন্য ভিসা ফ্রী দেশ। অর্থাৎ ভুটানে বেড়াতে যাবার জন্যে ভিসা বানানোর প্রয়োজন নেই। তাই পাসপোর্ট বা ভোটার আইডি কার্ড (voter id ) অবশ্যই দরকার।

৭) ই পারমিট (E-permit) ছাড়া প্রবেশ নিষেধ।

৮) এসডিএফ ( S.D.F.) চার্জ সবার ওপর আরোপিত। চার্জ বয়সানুপাতে ভিন্ন।

৯) ভারতীয় মুদ্রা (৫০০/- বা তার নীচের নোট) ওখানে চলে। সুতরাং Rupees বা ভারতীয় টাকাকে ভুটানী মুদ্রায় পাল্টে নেবার কোনো দরকার নেই।

১০) জামাকাপড়ের ব্যাপারে আগে থেকে একটু জেনে যাওয়াই ভালো। পুনাখা ফোর্টে হাত ঢাকা বা full  sleeve জামা পড়ে যাবার নিয়ম আছে। তবে খুব খোলামেলা জামাকাপড় না পড়াটাই শ্রেয়।

এইসব বিষয়গুলো নিয়ে পরে আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো।

যাইহোক অনেক খবর সংগ্রহ করে ফেলেছি। এবার তো টিকিট কাটা, itenary / পরিকল্পনা, ব্যাগ গুছনো —– অনেক কাজ বাকি।

( উপরোক্ত বিবরণ টি লেখিকার সম্পূর্ণ নিজস্ব ভ্রমণ অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে। বিভিন্ন তথ্যের উৎস স্থল হল স্থানীয় বাসিন্দা, গাড়ির ড্রাইভার ও ট্রাভেল এজেন্টের সাথে কথোপকথন। )

(সমস্ত ছবি আমি এবং সুমন তুলেছি। কোনো copied ছবি ব্যবহার করা হয়নি। ছবি স্বত্ত্ব সম্পূর্ণ চিত্রগ্রাহকের।)

ভুটান পর্ব – ২ ( আমাদের কী কী নথি বা documents লেগেছিল ভুটান যেতে)

ভুটান পর্ব ১

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Design a site like this with WordPress.com
Get started