সিকিম ভ্রমণের অভিজ্ঞতা – ২ (নাথাঙ ভ্যালি)

নাথাঙ ভ্যালি

প্রায় সাড়ে 13 হাজার ফুট ওপরে অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রাম সারা বছর বিভিন্ন রূপে রূপসী। গ্রীষ্মে হরেক ফুলের নানান রঙে রঙিন, হলুদ ঘাসে শরৎ-এর রৌদ্র ছটায় সোনালী আর শীতে বরফের চাদরে মোড়া। তাই সারাবছর সৌন্দর্য্য পিপাসু পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ নাথাং ভ্যালি।

সরকারি-বেসরকারি হোমস্টে গুলো আধুনিক আসবাবে সজ্জিত। পাহাড়ের কোলে স্কুল, অনতিদূরে এক ছোট মন্দির, পাহাড়ি নদীর বুকে সাঁকো আর তারপরে বৌদ্ধ মনেস্ট্রি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ওল্ড সিল্ক রুটের এই নৈসর্গিক ভ্যালির কাছেই রয়েছে Eagle’s Nest Bunker আর Lungthung এর মতো সানরাইজ পয়েন্ট। আর যারা ট্রেকিং প্রেমী তাদের জন্যও রয়েছে বন্দোবস্ত। 1888 সালে ব্রিটিশ তিব্বতি যুদ্ধ স্থল নাথাং এ ব্রিটিশ সৈন্যদের কবরও দেখতে পাওয়া যায়।

দর্শনীয় স্থান

এবার ফিরে আসি আমাদের অভিজ্ঞতার কথায়ে। সূর্যাস্তের সাথে সাথে এক হাড় হিম করা শীতে আমরা তখন কাবু। ঘরে ঢোকার সাথে সাথে চা পকোড়ার দিয়ে আপ্যায়ন শুরু| প্রায় বিচ্ছিন্ন পর্বতে ঘেরা গ্রামে সব রকম সুবিধা আমরা পেয়েছি । গিজারের বন্দোবস্ত ছিল না বলে সকালে ও  রাত্রে গরমজল ঘরে পৌঁছে দিয়ে যেতেন | রাত্রের অস্বাভাবিক ঠান্ডায় মাংসের গরম গরম ঝোল আর রুটি দিয়ে নৈশভোজ সারার আনন্দই আলাদা| তবে নিরামিষ আহারেরও বন্দোবস্ত আছে| আগে থেকে জানাতে হয়ে| আরো অনেক ট্যুরিস্ট থাকায় জমাটি আড্ডার কোনো কমতি হয়নি|

পরের দিন মানে ৭ই অক্টোবর সকালে বাইরে চোখ পড়তেই দেখি সূর্য্যের আলো এই হলুদ ঘাসে ঢাকা সোনালী উপত্যকাকে আরো মায়াবী করে তুলেছে | প্রকৃতির হাতছানিতে প্রাতঃ ভ্রমণে বেরিয়ে পড়লাম| সরু নদীর উপর সাঁকো পেরিয়ে পাহাড়ের গায়ে শিব মন্দির আর মনেস্ট্রী| সবুজ আর হলুদ ঘাসে ভর্তি পর্বতমালার কোলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়| দৃশ্য অতি সুন্দর হলেও জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর| 

পাহাড়ে ঘেরা ছোট্ট এই গ্রামে অল্প কয়েকটি ঘরের বাস। অনতিদূরে মিনি চাইনিজ মার্কেট। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী বহুকাল আগে যখন নাথুলা পাস দিয়ে চীন থেকে দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যবসার কাজে আসতেন, তখন তারা এই গ্রামে বিশ্রাম করতেন। আরো শোনা যায় এখানে নাকি চমরী গাই (yak) এর পালকরা আসতেন তিব্বত থেকে। 

পথ নির্দেশিকা


সোনালী উপত্যকার সৌন্দর্য্য ভ্রমণপিপাসু মনকে যেন শান্ত করতে পারে না, মনে হয়ে যদি আর দুটো দিন থাকতে পারতাম নাথাং ভ্যালি তে। কিন্তু আমাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওখান থেকে বেরিয়ে পড়তে হল পূর্ব সিকিমের লক্ষ্যে।

পরবর্তী পর্ব:  জুলুক লুপস

বিঃ দ্রঃ – সিকিমের অনেক জায়গায় ভ্রমণের জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়। তাই, রেজিস্টার্ড ট্রাভেল এজেন্সি বা গভমেন্ট ওয়েবসাইট থেকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে তবেই ভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেবেন। ভারতীয় এবং অভারতীয়দের জন্য আলাদা অনুমতির ব্যবস্থা আছে।

( উপরোক্ত বিবরণ টি লেখিকার সম্পূর্ণ নিজস্ব ভ্রমণ অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে। বিভিন্ন তথ্যের উৎস স্থল হল স্থানীয় বাসিন্দা, গাড়ির ড্রাইভার ও ট্রাভেল এজেন্টের সাথে কথোপকথন। )

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Design a site like this with WordPress.com
Get started