ওল্ড সিল্ক রুটের অন্যতম আকর্ষণ এই জুলুক লুপ্স

২০১৯ সালের দূর্গা পুজোয়ে বেড়ানোর বিবরণ

জুলুক লুপস্

সোনালী উপত্যকার সৌন্দর্য্য ভ্রমণপিপাসু মনকে যেন শান্ত করতে পারে না, মনে হয়ে যদি আর দুটো দিন থাকতে পারতাম নাথাং ভ্যালি তে। কিন্তু আমাদের প্ল্যানমাফিক ওখান থেকে বেরিয়ে পরতে হল পূর্ব সিকিমের লক্ষ্যে। অতি শীতল স্থানে থাকার কারণেই হয়তো পথে শীতলতার প্রকোপ অনেকটা কম অনুভূত হয়। ছাঙ্গু লেকের কাছে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে শুরু হয় আবার যাত্রা।

পথ নির্দেশ

অবশেষে পৌঁছাই জুলুক লুপস্ ( zuluk, Dzuluk নামেও পরিচিত)। কিন্তু ভাগ্য বিরূপ। কুয়াশা । হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, ঘন কুয়াশা সকাল থেকে স্থানে স্থানে প্রচন্ড বিব্রত করেছিল আমাদেরকে। তাই থাম্বি ভিউ পয়েন্ট থেকে অনেক অপেক্ষা করেও কিছুই দৃশ্যগত হয়নি। কিন্তু আমাদের খুব নিরাশ হওয়ারও তেমন কিছু ছিল না। এই লুপস্ শুরু হয়েছে যে পাহাড়ের ওপর থেকে সেইখান থেকে ভিউ ছিল খুবই নন্দনীয়।

জুলুক লুপস্ ওল্ড সিল্ক রুট বা পুরনো রেশম পথের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরূপ সৌন্দর্য্যের অধিকারী এক স্থান।  ৩২ রাস্তার চেন ধরে পূর্বে কালিম্পং (ভারত) থেকে ব্যবসায়ীরা জেলেপ লা পাস দিয়ে লাসা (তিব্বত) পৌঁছাতেন। রেশম এই ব্যবসার প্রধান দ্রব্য ছিল বলেই এই পথের নাম ওল্ড সিল্ক রুট।

দর্শনীয় স্থান

পাহাড়ের উপর গড়ে ওঠা  ছোট্ট গ্রাম জুলুক। এখানে কোনো হোটেল নেই বটে কিন্তু অতিথিশালা বা হোমস্টে গুলো খুবই সুন্দর। রোডোডেনড্রন ফুলে আবৃত, বিভিন্ন পাখি ও বন্য জন্তুতে পূর্ণ এই জঙ্গল ঘেরা পর্বতমালার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য কলকাতার দূষণে অভ্যস্ত চোখে নেশার পরশ লাগিয়ে দেয়।

হ্রদ(Lake) ছাড়া পাহাড়ের সৌন্দর্য্য যেন বড় অসম্পূর্ণ। সেই কমতিকেই পূরণ করেছে কুপাপ হ্রদ (Elephant Lake, স্থানীয় ভাষায় Bitan Cho)।

কিছুক্ষণ ফটোসেশন চলার পর আমরা যাত্রা শুরু করলাম লিঙথামের পথে। জুলকে প্রথমে রাত্রিযাপনের কথা স্থির হলেও পরে অতি অল্প পরিচিত কিন্তু রোমাঞ্চে ভরপুর লিঙথামের ফরেস্ট হাউসের হাতছানি থেকে পরাঙ্মুখ হয়ে থাকতে পারিনি। তাই পরবর্তী পর্বে জঙ্গল, পাহাড় আর পাহাড়ী নদীর মূর্ছনায় তৈরি এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার কাহিনী থাকবে আপনাদের সাথে।

পরবর্তী পর্ব : লিঙথাম

বিঃ দ্রঃ – সিকিমের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণের জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়। তাই, রেজিস্টার্ড ট্রাভেল এজেন্সি বা গভমেন্ট ওয়েবসাইট থেকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে তবেই ভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেবেন। ভারতীয় এবং অভারতীয়দের জন্য আলাদা অনুমতির ব্যবস্থা আছে।

( উপরোক্ত বিবরণ টি লেখিকার সম্পূর্ণ নিজস্ব ভ্রমণ অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে। বিভিন্ন তথ্যের উৎস স্থল হল স্থানীয় বাসিন্দা, গাড়ির ড্রাইভার ও ট্রাভেল এজেন্টের সাথে কথোপকথন। )

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Design a site like this with WordPress.com
Get started