২০১৯ সালের দূর্গা পুজোয়ে সিকিম বেড়ানোর বিবরণ

একদিকে বিশাল পাহাড়। অপরদিকে গভীর খাদ আর খাদের অপরপাশে রংবেরঙের গাছে ভর্তি বিশাল পাহাড়। ঝর্নার অন্ত নেই। ভোরবেলা কনকনে ঠান্ডা। আর্মি ক্যাম্পের তাবু যত্রতত্র। ফোনেও কোনো টাওয়ার নেই। ইন্টারনেট নেই। ধীরে ধীরে আকাশ পরিষ্কার হচ্ছে আর রঙিন ফুল পাতায় ভর্তি পাহাড আর ঝর্ণা তাদের রূপ পাল্টাচ্ছে। মাঝে এসইউভি গাড়ি ছুটে চলেছে গুরুদংমারএর পথে। আর্মি বেস ক্যাম্পের আগের রাস্তা।
হ্যাঁ ঠিক| আমি উত্তর সিকিম এর কথাই বলছি| 2018 সালের পুজোর ছুটিতে সপরিবারে উত্তর ও দক্ষিণ সিকিম ভ্রমণ এতটাই সুন্দর ছিল যে এ বছর 2019 সালের দূর্গা পূজার ছুটিতে আবার সেখানেই ছুটে চললাম| দুর্গার আগমনের জন্য সুসজ্জিত অপরূপ তিলোত্তমা কলকাতা ছেড়ে পাড়ি দিলাম পাহাড়ের পথে|
মাসটি ছিল অক্টোবর| ৪ঠা অক্টোবর দমদম এয়ারপোর্টে বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ উড়োজাহাজ| অশেষ উৎকণ্ঠা নিয়ে উঠে বসলাম| বাগডোগরা পৌঁছাতে সন্ধ্যে সাড়ে ছটা| ওখানে তখন ঘন অন্ধকার| ছোটখাটো কিন্তু ব্যস্ত এয়ারপোর্টে হোটেল কোর্টইয়ার্ড ম্যারিয়টের গাড়ি ততক্ষনে উপস্থিত| মিনিট কুড়ির মধ্যেই হোটেলে পৌঁছে গেলাম| অসাধারণ পরিবেশ| ওনাদের আতিথেয়তায় আমরা মুগ্ধ|
পরের দিন সকাল বেলা থেকে শুরু করে পুরো ভ্রমণের দায়িত্ব নিয়েছিল আওয়ার গেস্ট (Our Guest) নামে ট্রাভেল এজেন্সি| ওনাদের সাথে বেড়ানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা এতটাই ভাল ছিল যে এবারেও তাদের সহায়তায় সিকিমের ভ্রমনসূচী ( ট্যুর প্ল্যান ) তৈরী করেছিলাম| ভ্রমনসূচী ছিল এইরকম:

সকাল 10 টা নাগাদ কোর্টইয়ার্ড মারিয়ট ( Courtyard Marriott) থেকে যাত্রা শুরু হলো গ্যাংটকের পথে। মাঝে মাঝে দুর্গাপূজা উপলক্ষে কয়েকটি শোভাযাত্রা বেশ নজর পড়ার মত । রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে নাচ গান প্রদর্শন চললো। তার জন্য কিছু বিলম্ব ঘটলেও অভিজ্ঞতা সুন্দর। যে পথ অনায়াসে সাড়ে 4 ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানো সম্ভব সেই রাস্তা অতিক্রম করতে সময় লাগল প্রায় 9 ঘন্টা। পথে অতিরিক্ত ট্রাফিক জ্যাম এর জন্য আমরা প্রায় রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ গ্যাংটকের মিন্টকলিং (mintokling) গেস্ট হাউসে পৌঁছাই। ঘরোয়া ছিমছাম পরিবেশ। আধুনিক ব্যবস্থা সম্পন্ন গেস্ট হাউসটি সত্যি সুন্দর। গরম গরম চাপাটি, সবজি দিয়ে নৈশভোজের ব্যবস্থা ছিল | রাতের অন্ধকারে চারপাশ ঘুরে দেখা যায় নি|

পরের দিন সকালে প্রথম নজরে পড়ল গেস্ট হাউসের চারপাশের বাগানটি| চারপাশে খুব সুন্দর গাছ আর অর্কিডে ভর্তি | মাঝে সবুজ ঘাস এর কার্পেটের ওপর চেয়ার, টেবিল পাতা| রাস্তা থেকে সিড়ি নেমে গেছে| চারপাশে ছোটো – বড় গাছ সাজানো| কয়েকটি সিঁড়ির পর পাহাড় ঢালে এক একটা রুম| আমাদরে ঘরটি তে একটা বসার ঘর আর একটা শোবার ঘর|আধুনিক বাবস্থা সম্পন্ন ঘরের মধে লাগোয়া স্নানঘর (বাথরুম)| মিনিফ্রিজ, কফি মেকার ও তার সরঞ্জাম, আলমারি, টিভি, টেবিল, সোফা, রুম হিটার সব কিছুরই সুন্দর বাবস্থা রয়েছে|
আমাদের ট্রাভেল এজেন্ট রাতেই বলে দিয়েছিলেন যে সকাল সাড়ে ৮টায় আমাদের হোটেলে গাড়ি পাঠাবে | নাথুলা পাস যাবার জন্যে| তাই গেস্ট হাউস থেকে সকাল ৭ টার মধ্যেই প্রাতঃরাশের বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন|
আমরা প্রাতঃরাশ সেরে আটটা নাগাদ ব্যাগপত্র নিয়ে তৈরি। কিন্তু চালক এসে পৌঁছায় সাড়ে নটা। যাই হোক তবু আশা ছিল যদি নাথুলা পৌঁছাতে পারি, কিন্তু ট্রাফিক জ্যাম আর রাস্তার খননকার্যের জন্য নাথুলা পাস আমাদের অধরাই থেকে গেল। তাই এবারে সোজা নাথাং ভ্যালি। পুরানো বাবা মন্দির দর্শন ছিলো উপরি পাওনা। নাথাং ভ্যালি যখন পৌঁছাই, তখন বিকেল। সেখানেও বিপত্তি। কাদাতে গাড়ির চাকা আটকে যায়। অগত্যা ছেলে আর ব্যাগ নিয়ে পায়ে হেঁটে পৌঁছায় নাথাং প্রেসিডেন্সিতে|
পরবর্তী পর্ব : সিকিম ভ্রমণ অভিজ্ঞতা (নাথাং ভ্যালি)
বিঃ দ্রঃ – সিকিমের অনেক জায়গায় ভ্রমণের জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়। তাই, রেজিস্টার্ড ট্রাভেল এজেন্সি বা গভমেন্ট ওয়েবসাইট থেকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে তবেই ভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেবেন। ভারতীয় এবং অভারতীয়দের জন্য আলাদা অনুমতির ব্যবস্থা আছে।
( উপরোক্ত বিবরণ টি লেখিকার সম্পূর্ণ নিজস্ব ভ্রমণ অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে। বিভিন্ন তথ্যের উৎস স্থল হল স্থানীয় বাসিন্দা, গাড়ির ড্রাইভার ও ট্রাভেল এজেন্টের সাথে কথোপকথন। )